ভর্তি পরীক্ষায় নিম্নমানের প্রশ্নপত্র ব্যাবহার, সমালোচনার মুখে রাবি কর্তৃপক্ষ

নিম্নমানের প্রশ্নপত্রে ভর্তি পরীক্ষা নেয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) কর্তৃপক্ষ।

গত ৪ অক্টোবর থেকে ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের এই ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম-লোগোবিহীন স্বাভাবিক দৃষ্টিসীমার কম ফন্ট ও নিম্নমানের প্রশ্নপত্র ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, ভবিষ্যতে আরও সতর্ক হয়ে প্রশ্ন করা হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৬ অক্টোবর বাণিজ্য অনুষদ ও ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটে বি ইউনিটের তৃতীয় শিফটের অবাণিজ্য বিভাগের ভর্তি পরীক্ষার অনুষ্ঠিত হয়।

এই পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে এ ফোর সাইজের কাগজের এক পাতায় ৮০টি প্রশ্ন ছাপানো হয়। এই প্রশ্নপত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো বা নামও উল্লেখ করা হয়নি।

এছাড়াও প্রশ্নপত্রের গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মনে।

এই বিষয়ে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক গৌতম রায় বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম, লোগো ইত্যাদি পরিচয়সূচক মূল বিষয়গুলো অবশ্যই থাকা উচিৎ।

প্রশ্নপত্রে কোনো ভুল না থাকা যেমন একটি আবশ্যকীয় শর্ত; তেমনি প্রশ্নপত্রের ফরম্যাটিংও এক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয়। প্রশ্নপত্র সহজে পড়ার জন্য ফন্ট সাইজ স্বাভাবিক রাখা বা পর্যাপ্ত খালি জায়গা রাখা ইত্যাদি বিষয়গুলো প্রশ্নপত্র তৈরির সময় বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

রাবির ভর্তি পরীক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামবিহীন এবং অত্যাধিক ছোট ফন্টে প্রশ্ন দেখে বিস্মিত হয়েছি, আহতও হয়েছি।

আমি মনে করি, ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র তৈরির সময় প্রশ্নপত্রের সাথে সম্পর্কিত সমস্ত দিকই বিবেচনায় রাখা উচিত।

জানতে চাইলে বিশ্ব বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার তাপু বলেন, ফন্ট ছোট হওয়ার ব্যাপারটি আমাদেরও দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এগুলো এত ছোট করা ঠিক না। মানুষের যে স্বাভাবিক দৃষ্টিসীমা রয়েছে সে সাইজে রাখা উচিৎ ছিল।

তবে কোয়ালিটি নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে তা নিয়ে আমি মন্তব্য করতে পারবো না কারণ বিষয়টি ডিনদের দেখার কথা। তবে আমাদের ভর্তি কমিটির মিটিংয়ে আমরা বিষয়টি তুলবো যেন ভবিষ্যতে আরও বেশি সতর্কতা অবলম্বন করা যায়।

আরও পড়ুনঃ  ৩৫ বছরের শিক্ষকতা জীবনে একদিনের জন্যও ছুটি নেননি এই শিক্ষক

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতর জানায়, এই ভর্তি পরীক্ষায় ৪ হাজার ১৯১টি আসনের বিপরীতে পরীক্ষা দিচ্ছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৪৭ ভর্তিচ্ছু।

মোট ৩টি ইউনিটে প্রতিদিন ৩ শিফটে ৪ অক্টোবর থেকে ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ১০ অক্টোবর এর ফল প্রকাশ শুরু হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

দয়া করে আপনার Ad Blocker টি বন্ধ করুন

অ্যাডের টাকা দিয়েই আমাদের সাইট পরিচালনা করা হয় ‌‌। আপনি দয়া করে আপনার Ad Blocker টি বন্ধ করে আমাদেরকে সাহায্য করুন ‌।