গল্প: মেয়েটি বললো আমি কাউকে বিশ্বাস করিনা তারপর

সন্ধ্যার পর হাতিরঝিলে বসে আছি। ১২-১৪ বছর বয়সী একটা ছেলে এসে বলল, আপু আমারে দুই কেজি চাউল কিন্না দিবেন? অথচ আমার পার্সে নগদ অর্থ আছে মাত্র তেরো টাকা। আমি বিস্মিত চোখে ওর দিকে খানিক্ষন তাকিয়ে কি উত্তর দিবো ভেবে পাচ্ছিলাম না। আমার পাশে আরো একজন মধ্যবয়স্ক লোক বসা ছিলো। সেও কিছুক্ষন ড্যাবড্যাব করে ছেলেটাকে দেখে অন্যদিকে মুখ ঘুরালো। আর আমি ভাবতে লাগলাম ছেলেটা আঙ্কেলকে না বলে আমাকেই কেন চাল কিনে দেয়ার কথা বলল? তাহলে কি এটা ভালো কিছু করার জন্য আল্লাহ তা’আলা আমাকে কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছে?

একবার ভাবলাম ছেলেটাকে না করে দিই। কারন পকেটে আছে তেরো টাকা আর বসে আছি বন্ধুকে তার পার্সেল ডেলিভারী দেয়ার অপেক্ষায়। যদিও পকেটে টাকা না থাকলেও বিজনেসের খাতিরে আমার বিকাশ একাউন্টে পর্যাপ্ত পরিমান টাকা সবসময়েই থাকে। প্রয়োজন হলে তুলে নেই আরকি। কিন্তু তারপরেও একা ছেলেটাকে নিয়ে কোনো দোকানের দিকে যাওয়ার সাহস করিনি। বন্ধুকে ফোন দিয়ে জানলাম অর্ধেক পথ চলে আসছে। ভাবলাম ততক্ষণ ছেলেটার সাথে চিটচ্যাট করা যাক।

জিজ্ঞাসা করলাম,
— তোমার নাম কি?
—ইমন
—বাসা কোথায়?
—আনন্দনগর
—তুমি এভাবে চাল চাইতেছো? তোমার আব্বা আম্মা কই?
ছেলেটা এবার মলিন মুখে বলল,
— আব্বা আম্মা দুইজনই বাসায় আছে। আব্বার রঙ মিস্ত্রী। এহন কাম নাই। আম্মাও কাম পায় না।
ছেলেটাকে বললাম, বসো এখানে। ও বসলো না। বলল,
—- ঠিক আছে আপু সমস্যা নাই, আমি দাঁড়াইয়া-ই থাকি।
কিছুক্ষণ পর আমি আবারও জিজ্ঞাসা করলাম,,
— পড়াশুনা করো?
— আগে করতাম, এহন আর করিনা।
— কেন?
—- খিদা পেটে পড়াশুনা মাথায় ঢুকেনা।
এতক্ষন যেমন তেমন চলছিলো। কিন্তু ছেলেটার মুখে এই কথা শুনে আমার কেমন যেন ভেতরে লাগলো। তারপরেও কোনো রকম সংকোচ আমি কাটাতে পারছিলাম না। কারন এই দেশে ভিক্ষাবৃত্তির নামে চিটার বাটপারের জন্য বয়সের কোনো পার্থক্য হয়না। এরচে বরং পাঁচ টাকায় ফুল কিনে জোর করে বিশ টাকায় বিক্রি করা ঐ বাচ্চাগুলোকে আমি বেশি ভালোবাসি। অন্ততপক্ষে ওদের মধ্যে জোচ্চুরি ব্যাপারটা নেই। ফুলের দামের সাথে আরো পাঁচ টাকা বাড়িয়ে টিপস দিলে তো ওরা মহাখুশি। আর ওদের সেই খুশির হাসিটা দেখতে জাস্ট অসাধারন।

কিন্তু সত্যি কথা বলতে এই ছেলেটার মুখটা এতটাই মায়াবী ছিলো যে আমি কিছুতেই ওকে ইগনোর করতে পারিনি। ছেলেটাকে আশ্বাস দিয়ে বললাম,
—- তুমি দাঁড়াও। আমার লোক আসলেই তোমাকে নিয়ে দোকানে যাবো। এদিকে মুদির দোকান কোথায়?
ছেলেটা হাত ইশারায় আমাকে দোকান দেখালো। একটু পরে ও সাইড সরে বলল,
—আপু টিস্যু হবে আপনার কাছে?
আমি টিস্যুর বদলে পার্স থেকে একটা পরিত্যক্ত কাগজ বের করে ওর হাতে দিতেই লাল পিঁপড়ার কামড়ে ওর পা থেকে বেয়ে পড়া রক্ত মুছলো। আমি অবাক চাহনিতে ওর দিকে তাকিয়ে ভাবলাম,
—এমনিতেই দারিদ্রতার শোষণে পেটে ক্ষুধা নিয়ে ছেলেটা ঘুরছে এখানে ওখানে, আবার কিনা পিঁপড়াগুলাও কামড় বসায় তার সেই হাড্ডিসার শরীরে।
এজন্যই হয়ত কথায় আছে যাকে পীড়ার তাকে শুধু মানুষেরা নয়, পোকামাকড়েও পীড়ে।

খানিকবাদে আমি কি জানি কি ভেবে ছেলেটাকে বললাম,,
— শুধু চাল দিলেই হবে? ভাত খাবা কি দিয়া!
ও মাথা চুলকাতে চুলকাতে বলল,
— দেহি, আরেকজনের কাছে অন্য কিছু চামু।
আমার খটকা লাগলো। বললাম,,
— তার মানে প্রতিদিনই কি তুমি এমন মানুষের কাছে চেয়ে বেড়াও?
ও অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল,,
— না, প্রতিদিন চাইনা। তবে এক সপ্তাহ পর পর বা আব্বার কাজ যহন বন্ধ হইয়া যায় তহন চাইতে নামি।
— কিন্তু তুমি তো কাজ করতে পারো।
আমার মুখে কাজ করার কথা শুনে ছেলেটা এক প্রকার ভ্যাবছ্যাকা খেয়ে গেলো। কিছুক্ষন থতমত খেয়ে তারপর বলল,,
— কি কাজ করমু?
আমি আঙুল দিয়ে কিছুটা দূরে ফুল বিক্রি করা বাচ্চাদের দেখিয়ে বললাম, ঐ যে দেখো ওরা ফুল বিক্রি করতেছে তুমিও তো পারো এটা করতে। তাহলে এভাবে কখনও তোমাকে কারো কাছে চাইতে হবেনা। বরং নিজের টাকায় চাল ডাল কিনে নিতে পারবা।
ও অবাক বিস্ময়ে বলল,
— আমারে ফুল দিবে কেডা?
আমি বললাম,
—বাচ্চাদের সাথে আলাপ করে দেখো। ওরা যেখান থেকে আনে তুমিও সেখান থেকে আনবা।
ও আর কোনো কথা বলল না। চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলো।

ইতিমধ্যে আমার বন্ধুও এসে হাজির। আমি ওরে আলাদা ডেকে নিয়ে বললাম,
— এই পিচ্চি আমার কাছে দুই কেজি চাল চাইতেছে। আমি ওরে নাও করতে পারছিলাম না। তাই তুই আসা পর্যন্ত বসিয়ে রাখছি।
বন্ধু তীর্যক হেসে বলল,,,
— বসাইয়া যখন রাখছিস কিনে দে তাহলে। তবে সত্যি বলতে আমি কাউকে বিশ্বাস করিনা। ছেলেটার মধ্যে বিন্দুমাত্র সত্যতা আছে কিনা আমি সে ব্যাপারে সন্দিহান।
আমি বললাম,
—- কিন্তু ব্যাপারটা হচ্ছে ও যদি মিথ্যাই বলতো তাহলে আমার কাছে টাকা চাইতে পারতো। চাল কেন চাইবে?

কথা হচ্ছে শুধু হাতিরঝিল নয় বাংলাদেশের এমন অনেক পাব্লিক প্লেস আছে যেখানে অভাবের নামে পথশিশুরা মানুষের হাত পা ধরে চিল্লাচিল্লি করে টাকা আদায় করে। কেউবা ভিক্ষাবৃত্তির নামে টাকা তুলে সেই টাকা দিয়ে দলবেঁধে নেশায় আসক্ত হয়। কিন্তু এই ছেলেটার মধ্যে প্রথমথেকেই সেরকম কোনো লক্ষণ আমার নজরে আসেনি। ছেলেটাকে দেখে আমার বার বারই মনে হয়েছে অভাবের তাড়নায় রাস্তায় নেমে আসা মধ্যবিত্ত সংসারের সন্তান হবে হয়ত৷ যারা না পারে কারো কাছে চাইতে, আর না পারে সইতে৷ হয়ত ছেলেটার মা-বাবার ক্ষেত্রেও এটাই ঘটেছে। প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে আমি আমার বন্ধুকে এটাই বুঝালাম। কিন্তু ও বুঝলো না। ওর একটাই কথা,
— আমার কাউকে বিশ্বাস হয়না।
অতঃপর ঐ ছেলেটাকে সাথে নিয়েই আমরা আগালাম মুদির দোকানের দিকে।

দোকান থেকে দুই কেজি চাল, ডাল আর আলু কিনে দিতেই বাধলো আরেক বিপত্তি। দোকানদার চেঁচিয়ে উঠে ছেলেটাকে বকাবকি শুরু করলো৷ প্রথম এক মিনিট আমি আর আমার বন্ধু দুজনই হা হয়ে তাকিয়ে রইলাম। বুঝলাম না কাহিনী কি হচ্ছে। দোকানদার চেঁচিয়ে বলছে,,
— তুই এইখানে আবারও আসছোস? যাহ ভাগ এইখান থেকে।
আমি দোকানদারকে থামিয়ে বললাম,
— আরে কি হইছে, এমন করেন কেন? ও আমার সাথে আসছে।
দোকানদার এবার যা বলল তার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না।
—– আপা ও আপনার সাথে আসছে এটা বুঝলে কখনোই আমি আপনাকে এগুলো কিনতে দিতাম না। মানুষের অভাব থাকতেই পারে। একদিন দুইদিন মানা যায় কিন্তু প্রতিদিনই ও একজন না একজনকে ধরে নিয়ে আসে। এটা কি ঠিক বলেন? এতে যেমন ওর অভ্যাসটা খারাপ হচ্ছে তেমন আমার দোকানের দিকেও মানুষ কুনজরে তাকাচ্ছে। আমার কাস্টমারদের মধ্যে বিরক্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে। ও কালকেও এগুলা একজনার কাছ থেকে নিছে, পরশুও নিছে। আবার আজকে দেখেন আপনারে নিয়া আসছে।

আমি কিছুতেই বুঝলাম না এই ছেলেটার মানুষের কাছ থেকে চাল ডাল নেয়ার সাথে উনার দোকানের রেপুটেশনের সম্পর্কটা কি! প্রশ্ন করলে উনি বললেন,
— আচ্ছা আপা আপনি ভেবে দেখেন একটা কথা, প্রতিদিন যখন ও মানুষ ধরে এনে আমার দোকান থেকে এটা সেটা নিচ্ছে তখন আমার আশেপাশের মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন জাগতেই পারে প্রতিদিনই আমার দোকান কেন?

কিছুক্ষন চিন্তা করে বুঝলাম দোকানদার আসলে খারাপ কিছু বলে নাই। একদিন, দুইদিন কিংবা মাসে একদিন ব্যাপারটা মানা যায় কিন্তু প্রতিদিন যদি ছেলেটা নতুন নতুন মানুষ ধরে থাকে তাহলে এটা কখনোই অভাবের মধ্যে পড়ে না। এটা তখন ধান্দবাজি করে ব্যবসা করার আওতায় পরে। কারন প্রকৃত মানুষ যারা, অভাব তাদেরকে চাইতে শেখালেও লোভী বানায় না। কিন্তু দোকানদারের মুখে যা শুনলাম তাতে বুঝলাম অভাব নয়, বরং ছেলেটা তার লোভের কারনে প্রতিটা দিন নতুন মানুষের দ্বারপ্রান্ত হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  বিজয় দিবস নিয়ে হিরো আলমের গান ( ভিডিও )

ছেলেটাকে বাজারের ব্যাগটা দিলে মিনিটের মধ্যে সে হাওয়া হয়ে গেলো। আর আমার বন্ধু আমার দিকে তাকিয়ে আবারও সেই তীর্যক হাসিতে বলল,
— তোরে বলছিলাম না, দেখলি তো?
আমি মুহূর্তের মধ্যে বোকা বনে গেলেও পরবর্তীতে চেতনায় ফিরলাম। বললাম,,
— যাই হোক, আমি তো আমার নিয়তে দিয়েছি। এখন যদি ছেলেটার উদ্দেশ্য খারাপ থাকে তাহলে আমার কিছুই করার নাই। কারন পৃথিবীর সমস্ত অসহায় মানুষকে দেখলে আমার মায়া হয়। নিজের যতক্ষন সামর্থ আছে ততক্ষনে আমি তাদেরকে ফেরাতে পারিনা৷

তবে সত্যি বলতে দোকানদারের বলা কথাগুলোর ঐ মুহূর্তে বুঝেছিলাম ছেলেটার আকুতি মিনতি দেখেও আমার পাশে বসা আঙ্কেলটার গায়ে না লাগার কারন কি৷ হতে পারে তিনি প্রতিদিনের এমন ঘটনায় অভ্যস্ত। নয়ত আমার বন্ধুটার মতই তিনিও মানুষের অসহায়ত্বের বিচারে নিজেকে অবিশ্বাসী হিসেবেই গড়ে তুলেছেন। নয়ত তিনি অভিজ্ঞ।

ব্যাপারটা হচ্ছে, আমি আসলেই জানিনা কিংবা আজও বুঝার চেষ্টা করিনা যে ছেলেটার আসলেই ওগুলো প্রয়োজন ছিলো নাকি পুরাটাই ভাঁওতাভাজি। এখানে পয়েন্ট অব ভিউতে দেখতে গেলে দুইটা বিষয় উঠে আসে। প্রথমত যদি প্রয়োজনও হয় তবুও প্রতিদিন একই কাজ করা শোভনীয় না। কারন ভিক্ষাবৃত্তি মানুষকে সারাজিবনের জন্য অলস করে তোলে। যদি এভাবেই ও মানুষকে পটিয়ে নিজের কাজ হাসিল করতে পারে তাহলে ও আর কোনোদিনই কোনো কাজ করতে চাইবেনা। দ্বিতীয়ত যদি প্রয়োজন ছাড়াই এমন কাজ করে তাহলে ভবিষ্যৎ ওর জন্য আরো খারাপ কিছু বয়ে আনতেছে। কারন এই বিষয়টা আজ দোকানদারের চোখে লেগেছে আগামীতে আরো দশজনার চোখে লাগবে। তারপর আল্লাহ না করুক একদিন যখন ওর সত্যিই প্রয়োজন হবে সেদিন কাউকে আর সাহায্যের জন্য পাবেনা।

ঘটনাটা তিন সপ্তাহ আগের। এতদিন পর ঘটনাটা গল্প আকারে তুলে ধরার কারনটা এবার বলছি।

একবার আমি দুই লাইনের একটা পোস্ট করেছিলাম-
“আমি বোধ হয় শুধু ধোঁকা খাওয়ার জন্যই জন্ম নিয়েছি”।
এই পোস্ট দেখে আমার কাছের মানুষেরা সবাই এই বিষয়টাকে প্রেমের সম্পর্কের দিকে টেনে নিয়েছে। কেউ কেউ অপ্রসাঙ্গিক মন্তব্যও করেছে। আমি অবশ্য গায়ে লাগাইনি। কারন আমার নিজের থেকে ভালো আমাকে দুনিয়ার আর কেউ-ই চিনেনা।

আরও পড়ুনঃ  এসএসসি পরীক্ষার চূড়ান্ত রুটিন প্রকাশের তারিখ ঘোষণা !

হাতিরঝিলের ঘটনায় প্রথমেই যে ছেলেটার প্রতি আমার ডাউট তৈরি হয়নি ব্যাপারটা তেমন না। তবুও আমি ছেলেটাকে ফেরাতে পারিনি। এমনকি দোকানদারের ব্যবহারে আমি শক খেলেও বারবার একটা কথাই ভেবেছি যার রিজিকে সে নিয়েছে। আল্লাহ তা’আলা হয়ত এটাই চেয়েছেন আমার মাধ্যমে তার প্রাপ্ত অর্থটুকু তার কাছেই পৌঁছাক। এখানে আমি শুধু আমার নিয়তটুকুই খুঁজেছি। সে এগুলো নিয়ে কি করলো নাকি করলো না তা বিবেচনা করার প্রয়োজনবোধ মনে করিনি।

উক্ত ঘটনা তো কেবলই একটা বাহ্যিক ঘটনা মাত্র । আমার ব্যক্তিগত লাইফেও আমি এমন এমন ঘটনার সম্মুখীন হয়েছি যেখানে অন্যের ভালো করতে গিয়ে নিজেই বার বার কলুর বলদ সেজেছি। এই তো গত ডিসেম্বর থেকে এই আগস্ট পর্যন্ত দীর্ঘ আট মাস নিজের সব শখ আল্হাদ বাদ দিয়ে আমি আমার কাছের দুইটা অসহায় মানুষকে সবসময় ভালো রাখার চেষ্টা করেছি। এমনও দিন গেছে আমার ঘরে বাজার নাই অথচ দিনের পর দিন আলু সেদ্ধ দিয়ে ভাত খেয়ে টাকা বাঁচিয়ে তাদের সমস্যা সমাধান করেছি। এমনকি একজনার চাকরি সুবাদে একটা ভালো ফোনের প্রয়োজনে নিজের জমানো কস্টের টাকায় কেনা হাতের ফোনটাও দিয়ে দিয়েছি। আমার এই নিঃস্বার্থ উৎসর্গের মাঝে আমি কখনোই কোনো বিনিময় আশা করিনি। শুধু চেয়েছি আমার কাছের মানুষগুলা ভালো থাকুক। তবুও বিনিময়ে কি পেয়েছি জানেন? আজ ভালো সময়ে আমার সেই বন্ধুদের অচেনারুপ। জানতে পেরেছি স্বার্থ হাসিলের জন্য অসহায় সেজে তাদের নিখুঁত অভিনয়ের মর্মার্থ।

আমি যখন ঢাকা শহরের রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাই, অসহায় মানুষগুলোকে দেখলে আমার চোখ জুড়ে কান্না আসে। কল্পনায় ডুবে গিয়ে ভাবতে থাকি আমি যদি আরব উপন্যাসের সেই আলাদিনের চেরাগ পেতাম তবে ঘসা দিয়ে দৈত্যের কাছে বলতাম,
–সবাইকে সাবলম্বী করে দাও, পৃথিবীতে যেন কোনোদিন কোনো অসহায় মানুষ না থাকে।

আবার মাঝে মাঝে যখন অসহায় সেজে থাকা মানুষগুলোর ছলনা চোখে পড়ে তখন সেই আমি-ই একবার আনমনে ভেবে ফেলি,” আমি বদলে যাবো”। আমার সেই বন্ধুটার মত আমিও বলবো,
–আমি কাউকে বিশ্বাস করিনা।

কিন্তু পরক্ষনেই শত কল্পনা জল্পনা ভুলে গিয়ে আমি আবারও বোকা সাজি, আবারও ধোঁকার রাজ্যে বসবাস শুরু করি। কারন বোকা মানুষদের জন্য স্বার্থবাদিতার দুনিয়া কখনও সরলরেখায় চলেনা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

দয়া করে আপনার Ad Blocker টি বন্ধ করুন

অ্যাডের টাকা দিয়েই আমাদের সাইট পরিচালনা করা হয় ‌‌। আপনি দয়া করে আপনার Ad Blocker টি বন্ধ করে আমাদেরকে সাহায্য করুন ‌।