BCS: ভাইভার ভয় যেভাবে দূর করবেন !

ভাইভা নিয়ে কমবেশি Tension করেনা এমন কাউকে খুজে পাওয়া কষ্টসাধ্য। এই ভয়টা ভাইভার সাধারণ শিষ্টাচার বহির্ভূত নয়! তবে অতি টেনশন করে সবকিছু হযবরল করা যাবেনা। আজ কথা বলবো বিসিএস ভাইভা নিয়ে। এটা কোন টিপস না বরং অভিজ্ঞতা শেয়ার বলা যেতে পারে।

বিসিএস ভাইভার প্রস্তুতি মূলত ৩ প্রকার

১. প্রথমেই আসে একাডেমিক বা জ্ঞানভিত্তিক প্রস্তুতিঃ এটার মধ্যে আপনার বিষয় ভিত্তিক পড়াশোনা, ক্যাডার চয়েস, আপনার জেলা, মুক্তিযুদ্ধ, পারিপার্শ্বিক সবকিছু অন্তর্ভুক্ত। তাই আপনার ক্যাডার চয়েজ এর ব্যাপারে সম্যক ধারণা থাকতে হবে( প্রথম দুটি চয়েস সম্পর্কে  তো অবশ্যই, সম্ভব হলে তৃতীয় চয়েজ সম্পর্কে পূর্নাঙ্গ ধারণা রাখুন), আর সেটি কিভাবে পঠিত বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত তা ভালো ভাবে জেনে নিতে হবে।

নিজ জেলার ইতিহাস, বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব, কবি – সাহিত্যিক, জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, দর্শনীয় স্থান; এগুলো ভালোভাবে জানা থাকতে হবে ।

আপনার  শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিখ্যাত কোনো শিক্ষক / ছাত্র/গবেষক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাথে মুক্তিযুদ্ধ জড়িত কোনো বিশেষ ঘটনা জেনে যাওয়া ভালো।

এছাড়া আপনার ক্যাডার চয়েজের বর্তমান শীর্ষস্থানের কর্তাব্যক্তি সম্পর্কে, সমসাময়িক রাজনৈতিক ঘটনা এবং আন্তর্জাতিক ঘটনার ব্যাপারে আলোকপাত করতে হবে৷ আর যাদের ফরেন ক্যাডার প্রথম পছন্দ  তাদের বৈশ্বিক ঘটনাবলি, কূটনৈতিক ইস্যু, বিশ্ব বাণিজ্য ইত্যাদি সম্পর্কে  ভালোভাবে আয়ত্ব থাকতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধঃ মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস; বিশেষ করে ছয়দফা, ৬৯ এর অভূত্থ্যান, স্বাধীনতার ঘোষণা এই ইতিহাসগুলো খুটিয়ে খুটিয়ে সঠিকভাবে জানা থাকতে হবে। এই ধরনের প্রশ্নের উত্তরে কোন ভাবেই ভুল করা যাবেনা; কিংবা বির্তকিত কোনো উত্তর ভুল করেও দেয়া যাবেনা। So be careful!

২. Personal প্রস্তুতিঃ এখানে নিজের ব্যাপারে, নিজের পরিবার, পড়াশোনা অর্থাৎ Introduce Yourself; এই প্রশ্নের উত্তর আগে থেকেই গুছিয়ে যাবেন। এগুলো ইংরেজিতেও ভালোভাবে ঝালিয়ে যাবেন। আপনাকে ইংলিশে অনেক Fluent হতে হবে এমন কোন কথা নেই, বরং Average স্পিডে স্পষ্ট ভাবে ইংরেজিতে বলতে পারলেও হবে। সেজন্য ভাইবার বেশ কিছু দিন আগে থেকেই ইংরেজিতে কথা বলা Practice করুন।

আপনার শখ, কবি, সাহিত্যিক ইত্যাদি ব্যাপারেও প্রিপারেশন নিতে হবে। আপনাদের অনেকের কবিতা বা সাহিত্য নিয়ে  পড়াশোনা না থাকলেও অন্তত ভাইভার খাতিরে ২/৪টা পড়তে হবে। যাতে করে বোর্ড আপনাকে চরম বেরসিক প্রমাণ করতে না পারে!

৩. ব্যাক্তিত্বের প্রস্তুতিঃ আপনি অনেক কিছুই জানেন, পারেন কিংবা আপনার ব্যাকগ্রাউন্ড খুব ভালো কিন্তু আপনার Attitude বা প্রকাশভঙ্গির কারণে সব ম্লান হয়ে যেতে পারে। একটা ব্যাপার মনে রাখবেন, আপনি সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে যাচ্ছেন ভাইবা বোর্ড  সেটা আশা করেনা; বরং আপনি কিভাবে বিনয় আর আন্তরিকতার সাথে চেষ্টা করছেন সেটাও খুজে।

আরও পড়ুনঃ  লকডাউনে পড়ালেখার পাশাপাশি মুরগি পালন করে মা-বাবার পাশে দাঁড়ালেন নাফিজ

ভাইবা বোর্ডে আপনাকে অবশ্যই বিনয়ী হতে হবে। আর এই বিনয়টা শুধু ভাইভা বোর্ডে না বরং জীবনের সব ক্ষেত্রে ধরে রাখলে আপনার লাভ ছাড়া ক্ষতি হবেনা। আপনার পোশাক, কথাবার্তা মার্জিত হতে হবে। যেকোন ধরণের Argument থেকে বিরত থাকতে হবে। বোর্ড বাংলায় প্রশ্ন করলে বাংলায় উত্তর দিবেন; আর ইংরেজিতে প্রশ্ন  করলে ইংরেজিতে উত্তর দিবেন। কোনো ভাবেই Over Smartness দেখানো যাবেনা।

৪. ভাগ্যের প্রস্তুতিঃ এবার আসি শেষ প্রস্তুতিতে। এটা হলো ভাগ্যের প্রস্তুতি। নিশ্চয়ই অবাক হচ্ছেন, ভাগ্যের আবার প্রস্তুতি কি!!!  আমার হাইস্কুলের এক শিক্ষক বলতেন ‘ “ভাগ্যের চাষ করো”! সেটা কিভাবে করবেন? আপনার সৃষ্টিকর্তার কাছে নিয়মিত প্রার্থনা করুন। বারবার সৃষ্টিকর্তার কাছে চাইতে থাকুন। কি চান সেটাও Specifically বলুন। যেমন: আপনি চাইলেন আমার ভাইবা ভালো হোক। দেখা গেলো, ভাইভাও ভালো হলো কিন্তু চাকুরীটা হলো না। তার চেয়ে বরং বলুন ভাইবা যেমনই হোক আমার যেন চাকুরীটা যেন হয়। চাওয়ার ক্ষেত্রেও বি স্পেসিফিক!

শেষকথাঃ ভাইভা  রিলেটেভ ২/৩ টি প্রকাশনার বই কিনে ফেলুন। প্রথম চয়েজ রিলেটেভ একটা বই ডিটেইলে পড়ুন। এছাড়া কিছু Reference বই আছে। Reference বই না পড়তে পারলেও সেগুলোর সামারি টাইপ বই বাজারে পাওয়া যায়, সেগুলো পড়ে ফেলুন। প্রচুর ভাইবা অভিজ্ঞতা পড়ুন। সেক্ষেত্রে সফল ক্যাডারদের বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে ‘ভাইবা বোর্ডের মুখোমুখি’ বইটি দেখতে পারেন। সকলের জন্য রইলো শুভকামনা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

দয়া করে আপনার Ad Blocker টি বন্ধ করুন

অ্যাডের টাকা দিয়েই আমাদের সাইট পরিচালনা করা হয় ‌‌। আপনি দয়া করে আপনার Ad Blocker টি বন্ধ করে আমাদেরকে সাহায্য করুন ‌।